অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স (এবিআর)

Image result for antibiotic resistance

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স (এবিআর) একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা এবং
অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও অতিব্যবহারের পাশাপাশি খারাপ স্বাস্থ্যের মানদণ্ডের কারণে বাংলাদেশে এ সমস্যা প্রকট। সাম্প্রতিক সময়ে এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স (এবিআর) বৃদ্ধি এবং নতুন অ্যান্টিবায়োটিক বিকাশের হার হ্রাস উভয়ই হয়েছে। বিশ্বব্যাপী মৃত্যুহার এবং অর্থনৈতিক বোঝার ক্ষেত্রে এবিআর একটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলো অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যাপকভাবে অপব্যবহার, অ-মানবিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার, ঔষধপত্রের নিম্ন মান, অপর্যাপ্ত নজরদারি এবং ব্যক্তিগত এবং জাতীয় দারিদ্র্য সম্পর্কিত উপাদানের (দুর্বল স্বাস্থ্যের মান, অপুষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী এবং পৌনঃপুনিক সংক্রমণ,আরো কার্যকর এবং ব্যয়বহুল ওষুধের অপর্যাপ্ততা) কারণে বেশি জর্জরিত। অধিকন্তু, নতুন ওষুধের অভাবের মানে হল যুদ্ধে হেরে যাবার আগেই রেজিস্টেন্স প্রতিহত করতে হবে।


দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশ যার উচ্চ ডিগ্রি এবিআর রয়েছে, একটি আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী হুমকি সৃষ্টি করেছে। ২০০৩ সালে চট্টগ্রামে সম্পাদিত একটি গবেষণায়, টাইফয়েড রোগীরা সেকেন্ড-লাইন থেরাপির (সিপ্রোফ্লোক্সাসিন) কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। ফার্স্ট-লাইন থেরাপির চেষ্টাই করা যায়নি রেজিস্টেন্সের কারণে। এমন চিকিৎসাগত ব্যর্থতা একদমই বিরল না। এ ছাড়া একাধিক গবেষণায় চিকিৎসকদের দ্বারা অযৌক্তিক অ্যান্টিবায়োটিকের নির্দেশনা, রোগীদের মধ্যে নিজে নিজে ওষুধসেবনের অভ্যাস এবং দেশের বিভিন্ন অংশে কৃষিতে অ্যান্টিবায়োটিকের নির্বিচার ব্যবহার এ পরিস্থিতির সাথে সম্পর্কিত।

যেহেতু নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের অভাব বিদ্যমান, বিদ্যমানগুলো সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এন্টিবায়োটিকগুলোর নিয়ন্ত্রিত ও সীমিত ব্যবহার রেজিস্টেন্সকে প্রতিহত করতে পারে এমন প্রমাণ রয়েছে। এটি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কঠোর নিয়মকানুন বাস্তবায়নের পাশাপাশি হেলথকেয়ার প্রফেশনাল এবং জনসাধারণকে শিক্ষিত করেও অর্জন করা যেতে পারে, যেহেতু প্রেসক্রিপশন ও নিজে নিজে ঔষধসেবনের মাধ্যমে বাংলাদেশে অযৌক্তিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার একটি সাধারণ বিষয়। স্বাস্থ্যসেবায় এন্টিবায়োটিকের সৎব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক স্টাওয়ার্ডশিপ প্রোগ্রাম বাস্তবায়িত করা উচিত। অধিকন্তু, যাতে আরো তুলনীয় এবং মানসম্মত তথ্য সংগ্রহ করা যায়, এজন্য নজরদারী পদ্ধতি প্রমিতকরণ অপরিহার্য। একইসাথে রেজিস্টেন্সের ট্র্যাক রাখতে সারা দেশে নিয়মিত নজরদারি করা দরকার।

অবশেষে, সর্বদা কোনো অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। আপনি আপনার দোরগোড়ায় একজন ডাক্তার কল করতে পারেন। যদি কোন জরুরী অবস্থার সম্মুখীন হন, ৯৯৯ বা উড়াল হটলাইন ০১৯৬৯৯০৬৫৫৫ বা উড়াল ইএমএস অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করুন।